লিনিয়ার শিনকানসেন প্রকল্পঃ সামনে কঠিন পথ
টোকিও-এইদেশ, রবিবার, সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৩


টোকিও থেকে নাগোইয়াকে সংযোগকারী লিনিয়ার চুউও শিনকানসেন লাইন নির্মণে কঠিন পথ পাড়ি দিতে হবে। ২৮৬ কিলোমিটার দুরত্বের এই পথের ৮৬ শতাংশই ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গের ভেতর নিয়ে নির্মাণ করা হবে। আর তার ফলেই বাড়ছে অনেক জটিলতা।

গত বুধবার সেন্ট্রাল জাপান রেলওয়ে কোম্পানি বা জেআর তোকাই ম্যাগনেটিক লেভিটেশন (ম্যাগলেভ) ট্রেন লাইনের রুট ও স্টেশন সম্পর্কে বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রকাশ করে। তারা জানায় ২০২৭ সালে ট্রেনটি চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

জেআর তোকাই এর প্রেসিডেন্ট ইয়োশিওমি ইয়ামাদা বলেন "আমরা নতুন প্রযুক্তির সাথে কঠিনকে স্বাগত জানাই"। তবে তিনি বলেন, বহু সমস্যার সমাধান করতে হবে।

টোকিওর শিনাগাওয়া থেকে নাগোইয়া পর্যন্ত লিনিয়ার চুউও শিনকানসেন লাইন নির্মাণ করতে ৫ লক্ষ কোটি ইয়েনের প্রয়োজন পড়বে এবং আরো ৪ লক্ষ কোটি ইয়েন লাইনকে ওসাকা পর্যন্ত বিস্তৃত করতে খরচ হবে। জেআর তোকাই'কে এই বিশাল অর্থের পুরোটাই নিজেকে বহন করতে হবে। "প্রকল্প থেকে কোনো অর্থ আসছেনা" ইয়ামাদা বলেন।

যদি শিনকানসেন রেলওয়ে আইন অনুসারে লাইন নির্মাণ করা হয় তবে জেআর তোকাই সরকারি সাহায্য পেতে পারে। তবে সরকার অন্যান্য অঞ্চল গুলোতে প্রথমে শিনকানসেন লাইন নির্মাণ করবে, তাই জেআর তোকাই নিজ খরচেই লিনিয়ার শিনকানসেন নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

জেআর তোকাই এর কর্মকর্তারা বলেছেন "আমরা যদি সরকারি তহবিলের জন্যে অপেক্ষা করি তাহলে কোনোদিনই এর নির্মাণ কাজ শুরু করা সম্ভব হবেনা।"

কিন্তু লিনিয়ার চুউও শিনকানসেন লাইন নির্মাণের এত বড় খরচ কোম্পানির জন্যে অনেক বেশি। জেআর তোকাইকে তাদের তোকাইদো শিনকানসেন লাইনেও বড় ধরণের সংস্কার কর্মকান্ডও পরিচালনা করতে হবে।

এ কারণেই জেআর তোকাই দুই ভাগে ম্যাগলেভ ট্রেন নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। প্রথমে তারা টোকিও থেকে নাগোইয়া এবং পরের ধাপে অর্থনৈতিক শক্তি ফিরে পাওয়ার পর ওসাকা পর্যন্ত লাইন সম্প্রসারণ করা হবে।

নতুন লাইনের ভাড়া এখনো ঠিক করা হয়নি। তবে তা টোকিও থেকে নাগোইয়া পর্যন্ত তোকাইদো শিনকানসেন লাইনের নোজোমি ট্রেনের বর্তমান ভাড়া ১০,৭৮০ ইয়েনের চেয়ে ৭০০ ইয়েনের মত বেশি পড়তে পারে।

মোট পথে সুড়ঙ্গের পরিমাণ হলো ২৪৬ কিলোমিটার।

ইয়ামাদা বলেন "নতুন লাইনের নির্মাণ কাজও কঠিন হবে। আমরা এখনো জানিনা মাটি খোঁড়ার কাজ শুরু হওয়ার কী ঘটতে পারে।"

সুড়ঙ্গ পথটি কানাগাওয়া ও আইচি প্রিফেকচারের শহুরে এলাকার ৪০ মিটার বা তারও বেশি গভীরতা দিয়ে প্রবাহিত হবে। আইন অনুসারে জনগনের ব্যবহার্যে মাটির এতো গভীরে সুড়ঙ্গ নির্মিত হলে কোম্পানিকে অযথা ভূমি মালিকদেরকে ক্ষতিপূরণ করতে হবেনা।

নির্মাণ কাজ চলবে নাগানো, ইয়ামানাশি এবং শিজুওকা প্রিফেকচারে অবস্থিত দক্ষিণ জাপানিজ আল্পস পর্বতের নিচ দিয়ে -যা হবে অত্যন্ত কঠিন একটি কাজ। এ ছাড়াও, মাটি থেকে পানি উঠে আসতে পারে ও সুড়ঙ্গ নির্মাণের এতো বিপুল পরিমাণ মাটি কোথায় ফেলা হবে তাও প্রশ্নবিদ্ধ রয়ে গেছে।

লিনিয়ার শিনকানসেন সংক্রান্ত যে সব নথি জেআর তোকাই বুধবার প্রকাশ করেছে তাতে পানির উৎস, প্রাকৃতিক পার্ক বা আবাসিক অঞ্চল দিয়ে লাইন নির্মাণ করা হবে না এবং সুড়ঙ্গের মাটি কৃষিকাজ বা সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যবহার করা হবে।

ওয়াসেদা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুড়ঙ্গ কৌশলের বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আৎসুশি কোইজুমি বলেছেন, সবচেয়ে বড় যে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে তা হলো 'ফোসা ম্যাগনা'র ভেতর দিয়ে সুড়ঙ্গ নির্মাণ। নিইগাতা থেকে শিজুওকা প্রিফেকচার পর্যন্ত বিস্তৃত একটি ভূগর্ভস্থ ফাটল যা জাপানের প্রধান দ্বীপকে পূর্ব ও পশ্চিম দুই ভাগে ভাগ করেছে। "যদি কোনো বড় ভূমিকম্প আঘাত হানে ভূতাত্ত্বিক স্তর কয়েক মিটার পর্যন্ত সরে যাওয়ার সমুহ সম্ভাবনা রয়েছে" কোইজুমি বলেন।

এ ছাড়াও দ্রুত গতির ম্যাগলেভ ট্রেনের চাপের কারণে সুড়ঙ্গের দেয়াল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে সেটিও আরেকটি চিন্তার বিষয়।

অনেকেই মনে করেন লিনিয়ার শিনকানসেন সার্ভিস চালুর সময় আরো এগিয়ে এনে ২০২০ অলিম্পিকের আগে করা যায় কিনা।

ইয়ামাদা অবশ্য এ ব্যাপারে সতর্কাবস্থানে রয়েছেন। তিনি বলেন "নির্মাণ কাজ দুই অঙ্কের বছরের আগে শেষ করতে পারার কোনো সম্ভাবনা নেই।"