আমি এই গনহত্যার বিচার চাই
-মঈনুল ইসলাম মিল্টন- , সোমবার, এপ্রিল ২৯, ২০১৩


[সাভারে রানা প্লাজা দুর্ঘটনায় হতাহত ভাই-বোনদের প্রতি কবিতাটি উৎসর্গ করা হলো]

কে যেনো খবর দিয়ে গেলো আমায়,
তোমার ভাই শক্ত কংক্রিটের খাঁচার মাঝে বন্দি
কংক্রিটের জঞ্জালের মাঝে, রক্তমাংসের স্তুপ।

বাঁচার আকুতি, আহতদের আর্তনাদ আর গোঙ্গানি
মৃতের নিথর দেহ পড়ে আছে ইট পাথরের গভীরে।

ধ্বংসস্তুপের ভেতর থেকে হঠাৎ চিৎকার ভেসে আসে-
আমি বাঁচতে চাই, আমাকে বাঁচাও, একটু পানি দাও, বুক ফেটে গেলো,
অন্ধকার গহ্বরে মৃতের সাথে, জীবিতের বসবাস।

যন্ত্রনাকাতর নিঃঘুম, অভুক্ত, আহত মানুষ
আশা নিরাশার দোলাচালে, অপেক্ষমান, বেঁচে থাকার প্রতিক্ষারত
অধরচন্দ্র বিদ্যালয়ের মাঠ, ক্রমেই ভরে ওঠে, লাশের দীর্ঘ মিছিলে

এক মুঠো ভাতের বিনিময়ে জীবনের সস্তা বেচা-কেনা!
অর্থের বিনিময়ে জীবনের লেনদেন।

আজ এই কলুসিত সমাজপতিদের ঘৃণা জানাতেও আমার ঘৃণা হয়
এদেশে প্রতিনিয়ত, মানবতা লঙ্ঘিত হয়।

কে যেন বলে গেলো আমায়, পূবের হাওয়া, না ভোরের পাখি?
জানিনা -আঁধার ঘেরা, কংক্রিটের নিকোষ অন্ধকারের বুক চিড়ে
মৃতের ভেতর থেকে-আজ নাকি ভূমিষ্ঠ হয়েছে একটি শিশুর।
সদ্যজাত শিশুটি তীব্র চিৎকার করে, ঘোষণা করে জানান দিচ্ছে
"ক্রীতদাসের সনদ হাতে নিয়ে আমিও এলাম এই ধরাধামে,
ধনীদের খেদমতে,
আজ, নয়তো বা কোনদিন আমিও মৃত্যু দিয়ে
জন্মের ঋণ শোধ করে যাবো।"

কী নিদারুন রসিকতা, কত সস্তা জীবনের লেনদেন
এইখানে এই অভাগা দেশে -"রক্তের দাগ ওরা মুছে
দিতে চায় সামান্য অর্থের বিনিময়ে।"
মুনাফাখোর, অর্থলোভী খুনিদের অর্থলিপ্সার বলি
আজ হাজারো প্রাণ।

ইট, পাথরের ভেতর থেকে উঁকি দেয় কংক্রিটের নীচে চাপা পড়া
কিশোরি মেয়ের রক্তাক্ত পা
যে পা, আর কখনো আলতা পরবেনা।

সেলাই দিদিমনির দু'হাত আজ ক্ষত-বিক্ষত নিস্তেজ
কে আর করবে সেলাই???

আমি মানুষের বিবেকের কাছে প্রশ্ন রেখে যাই
গরীব হয়ে জন্মানোটাই কি অন্যায়?

এ ভাবে আর কত দিন অভাগী দিদিমনিরা
মরবে এ বাংলায়??
আজ গভীরে শোকে নিমজ্জিত জাতি আমি শোক চাইনা
আমি এই গনহত্যার বিচার চাই, আমি স্বাভাবিক মৃত্যর গ্যারান্টি চাই
আমি গনহত্যার বিচার চাই, বিচার চাই।

গরিব মানুষ আগুনে পোড়ে ঘামে ভিজে রক্তে ভাসে
গরিবের রক্ত বড্ড-সস্তা
হত্যাকারীরা হত্যা করে পার পেয়ে যায়,
দাঁড়াতে হয়না তাঁদের কোনো বিচারের কাঠগড়ায়
সাবাস বাংলাদেশ, তোমাকে স্যালুট স্ব-দেশ
গোটা পৃথিবী, অবাক, নির্বাক, সমস্ত সম্ভবের দেশ তুমি
সত্যিই সেলুকাস।