নারী-আমি শুদ্ধ উচ্চারণ, মা
-মৌ মধুবন্তী-, শুক্রবার, মার্চ ০৮, ২০১৩


আমি নারী, আমি কি সেকথা ভুলতে পারি?
আমি সন্তান ধারণ করি।
আমি নারী, আমি নই সন্ত্রাসী , নই বিদ্বেষী, নই বিভ্রান্তি আমি কি সেকথা ভুলতে পারি?

আমি সংবর্ত , আমি সংবেদ, আমি সর্বংসহা, আমি প্রসব বেদনায় চিৎকার করে
আদরে ভালোবাসায় সন্তানকে বুকে জড়িয়ে ধরি
আমি নারী, আমি সংযম, আমি ধরিত্রী
আমি অপরাজিত আমি বিশ্ববিধাত্রী
আমি তন্বী, আমি বহ্নি, আমি হোম-হুতাশন, আমি দেশ-নগর-গ্রাম, আমি সংগ্রাম আমি অগ্নি
আমি কন্যা অনন্যা, আমি ভগ্নী –সঙ্গী,
আমি নই কেবলই স্ত্রী, আমি অস্থি, আমি বিশ্ব নাগরিক ,
আমি ভুঁই ফুড়ে ওঠা অগ্নিসাক্ষী, আমি সংঘাতে আত্মশুদ্ধি।

আমি এই ভূমণ্ডলের সেরা সৃষ্টি, আমি শরীরের ভেতরে নারী ও যুদ্ধ ক্ষেত্রে রণরঙ্গিণী
আমি শুদ্ধ উচ্চারণ, আমি মা, আমি শ্রীমুখর , আমি নই কারো রমণী, নই বিভ্রান্তি
আমি হতে পারি পথ ভোলা পথিক, পথের মাঝেই দৃষ্টান্ত রাখি
আমি সম্পুর্ন মানুষ, আমি সম্পুর্ণ নারী
আমি পৃথিবীকে নতুন করে গড়তে জানি, সাজাতে জানি।
আমি বৃক্ষ, লক্ষ্য, যজ্ঞ ও সুদক্ষ এক চিত্রকর,
অন্যায়, অবিচার, তাণ্ডব ও দানবীয় খেলা আমার কাছে অসহ্যকর
ধর্মের নামে অমানবিক ধ্বংস, হত্যা, জ্বালাও, পোড়াও,
মার-কাট লুট ধর্ষণ ও মিথ্যার কর্ষণ বন্ধ কর ।
আমি ভঙ্গুর পথে বন্ধু’র হাত ধরে বন্ধুর পথ পাড়ি দিতে পারি।

ধর্ষণ করে আমার এই সংগ্রামী দেহকে আর করো না ভারী- তুমি অন্যায়কারী, তুমি আততায়ী,
তুমি উন্মাদ, তুমি খুনী আমি প্রলেতারিয়েত , আমি নই সন্ন্যাসি, আমি নির্ভীক সাহসী
তুমি দেহ থেকে বর্জিত মলের চেয়ে দুর্গন্ধভারী,
তুমি হিংস্র এতোটাই তোমাকে জানোয়ার বলতেই সংকোচে মরি।
প্রতিটি ধ্বংসের হিসাব আমার কাছে কড়ায় গন্ডায় লিখে রাখি।
আমি নারী। এই কথা কি ভুলতে পারি?
আমি শুদ্ধ উচ্চারণ সংগ্রামী, আমি মা--- কোন মা-ই সহ্য করে না। অত্যাচার
আমি নারী-এ আমার অহংকার।
সময়ের দাবীতে আমিও প্রলয় হতে পারি, আমি পৃথিবী,
আমি নারী। আমি শুদ্ধ উচ্চারণ ‘মা’। আমি নারী।