নক্ষত্র পৃথিবী আমাদের
স্বপন দত্ত, শুক্রবার, মার্চ ০১, ২০১৩




কতো হলো বনলতা আমাদের পৃথিবীর বয়স এখন,
কত বার তিনশো পঁয়ষট্টি দিন কতো দীর্ঘ সেতু
পারাপার।
মনে পড়ে ইস্টিশন, ছেড়ে যাওয়া ট্রেন, জানালায় হাত নাড়া
অতিস্পয় প্রাচীন ক্যানভাস ঝাপসা হয়ে যাওয়া,
মনে পড়ে শিল্পকলা তুমি আমি নাটকের মলিন টিকেট।

বহুকাল হয়ে গেলো বনলতা, বদলে গেছে চেনা জানা
আমাদের পুরানা শহর, ওঠে চাঁদ সেই এক অতি পুরাতন,
অঝোর জ্যোৎস্না ঝরে সারারাত বৃষ্টির মতন।

মনে পড়ে বিখ্যাত সেই পিকনিকের তীক্ষ্ণ ছুরির ফলা-
‘আমি নদীর মতো কতোপথ ঘুরে তোমার জীবনে এসেছি;
মনে আছে, শ্যাওলা পিছল ঘাটে বেজেছিলো পায়ের নূপুর
পায়ের আলতার রঙে খুব খুশি হয়েছিলো পুকুরের জল,
জলপরি কেটেছিলো তোলপাড় তুমুল সাঁতার।

তোমার হয়তো নেই বনলতা, আমার হৃদয় পত্রে আছে
আজও সেই অটোগ্রাফ,
বেঁচে আছে সেই গ্রাম সেই নদী সাঁঝবাতি জ্বলে ওঠা
আঁধার শহর, জনহীন পথ ধরে একসাথে হাতে হাত
পথ-হাঁটা তারার আলোয়, তোমার হারিয়ে যাওয়া
চিরকাল জিজ্ঞাসা জিরাফ!

বনলতা, কতো হল আমাদের পৃথিবীর বয়স এখন,
সময়ের বহমান স্রোতে বুঝি চিনে নিতে হবে আজ
তোমাকে- আমাকে,
আমাদের পৃথিবীটা স্মৃতির নক্ষত্র হয়ে ধীরে ধীরে সরে
যাচ্ছে দূর ছায়াপথে।