বিশ্বজিৎ মন্ডলের দুটি কবিতা
টোকিও -এইদেশ, শুক্রবার, ফেব্রুয়ারি ০৮, ২০১৩


সেই অলৌকিক শিমুলতলা


এই পাহাড়ের উপত্যকায় দাঁড়িয়ে দেখলাম
মেঘে মেঘে ছয়লাপ পাহাড়ের চূড়ো
তাদের উড়নিতে নিষিদ্ধ ইঙ্গিত দেখে
পর্যটক পথ হারায়
জ্যোৎস্না ভেজা আলপথে,
রাতের শান্ত নৌকার ছইয়ে খেলা করে অলৌকিক
চাঁন্দ বাসি হয়ে আসে তোমার চোখের নরম আলোয়
বিষণ্ণ এক বাবলার ঝোপে সারারাত গোঙাতে থাকে
ভীন দেশী এক বনমোরগ
নাম তার ব্ল্যাক-প্যান্থার
অবশেষে....পাহাড়ের উপত্যকায়
শুরু হল জ্যোৎস্না অলৌকিক ঋতুনাচ
হিমে কাঁপতে থাকা হিমকলোনীতে শোনা যাচ্ছিল
এক নিষিদ্ধ নারীর সুরের তারানা
সা রে গা মা...পা...
বোল সখিয়াঁ...তেরে বিন...
আজ আমি এসে দাঁড়ালাম
সেই অলৌকিক শিমুলতলায়
যেখানে প্রতিটি রাতে স্বপ্নভঙ্গের অপরাধে
এক-একটা যুবকের নীল শিরদাঁড়া দিয়ে
বয়ে যাচ্ছে একটা হিমস্রোত




কোজাগরী


তখন জ্যোৎস্নার ঝর্ণা চাঁদ চুঁইয়ে নাবছে.....
তোমার সাধ জাগল চাঁদের নীল আলোয়
চড়ুইভাতি খেলবার
ব্যস...তোমার জন্য তৈরী হল
ভালবাসার খেলনাপাতি ঘর আর
স্বপ্ন ভেজা একপ্রস্থ বারান্দা
তখনও চাঁদ রমাদিদের নির্জন ছাতে
ছড়ায়নি সখ্যতা তখনও দুটো হেমন্ত সাপ
শুরু করেনি অলৌকিক শঙ্খমেলা
শিশির ভেজা আলপথে কেবল এক নিঃসঙ্গ শামুক
তোমার জন্য অপেক্ষা করছিল-
জ্যোৎস্না খেঁকো জন্ম ঘোচাবার জন্য
আজ সারাটা আকাশ তোমাকে ভিক্ষে চায়ছে
চাঁদের পাশে তুমি নেই বলে সে আজ রমণক্লান্ত
এরপর ক্লান্তিতে ঝুঁকে এলে রাত্রি
উল্কি অাঁকা হবে তোমার পোপস শরীরে
তোমার শরীরে শরীরে আজ যে নিষিদ্ধ দেশ
তার নাম রেখেছি- কোজাগরী.....