কিভাবে সংঘাতময় পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসব?
ফজলুল হক , শুক্রবার, মার্চ ০৮, ২০১৩


শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চ ঝানু ঝানু রাজনীতিবিদদের তত্ত্বাবধানে তৈরি হয়নি। এটা রাজনীতিবিদদের দীর্ঘদিনের পরিকল্পনার ফসল বলেও আমার মনে হয়না। ৫ ফেব্রুয়ারী কাদের মোল্লার বিচারের রায় ঘোষণার পর তরুণ প্রজন্মের ছেলে মেয়েরা সে রায় প্রত্যাখ্যান করে। তারা এর প্রতিবাদ করার জন্য সামাজিক যোগাযোগের সাইটে সকলকে শাহবাগে মিলিত হওয়ার আহবান জানায়। এ হচ্ছে গণজাগরণ মঞ্চের শুরুর ইতিহাস। গণজাগরণ মঞ্চে তরুণ আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবী যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি চাই। তারা ফাঁসি ছাড়া ঘরে ফিরে যাবেনা। ফাঁসির দাবীতে এই আন্দোলন আসলে ব্যাপক ভিত্তিক হতাশার প্রতিফলন। প্রশ্ন হচ্ছে- শাহবাগে সমবেত তরুণ-তরুণীরা কি আইনের শাসনে বিশ্বাসী নয়? তারা কি ন্যায় বিচারের প্রতি আস্থাশীল নয়? তারা কি আদালতের উপর নির্ভর করতে পারছেনা? যদি প্রশ্নটি আস্থাহনিতার হয়, তাহলে ভাবতে হবে, আমরা কিভাবে এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসব?


আমরা ধারণা, তরুণরা আইনের শাসনে বিশ্বাসী। তারা আদালত কর্তৃক ন্যায় বিচার হবে-এ ব্যাপারে আস্থাশীল। তারা আদালতকে বিশ্বাস করে। তাদের আপত্তি অন্য জায়গায়। বিচার প্রক্রিয়ায় রাজনীতিবিদদের ইচ্ছা-অনিচ্ছা নিয়ে তাদের আপত্তি। বিচার প্রক্রিয়ায় রাজনীতিবিদদের ইচ্ছা-অনিচ্ছার দাম অনেক। তাদের ইচ্ছা-অনিচ্ছা প্রভাব বিস্তার করে, এ্টা আমরা আগে দেখেছি। আগামী নির্বাচনে সরকার পরিবর্তন হতে পারে, যদি বিএনপি ক্ষমতায় আসে এবং বেগম জিয়া প্রধানমন্ত্রী হন-অনেকের ধারণা, বেগম জিয়া যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া বন্ধ করে দেবেন। এই সরকারের আমলে যদি আদালত কোন যুদ্ধাপরাধীকে সাজা দেয়, সে সাজা মওকুফ হয়ে যাবে। আপনি মনে করেন, জামায়াতে ইসলামী বিএনপির সাথে জোটবদ্ধ, সুতরাং বিএনপি যুদ্ধাপরাধের বিচার চায় না, মুখে সে যাই বলুকনা কেন। আপনি যদি মনে করেন, আওয়ামী লীগ যদি ক্ষমতা থেকে চলে যায়, যুদ্ধাপরাধীদের সম্পর্কে নতুন সরকারের দৃষ্টিভংগি পাল্টে যাবে। এই বিশ্বাস থেকে আপনি কথা বলছেন, এটাকে আমরা আদালতের প্রতি মানুষের অনাস্থা বলে ধরে নিতে পারি না, এটা রাজনীতিবিদদের প্রতি মানুষের অনাস্থার বহিঃপ্রকাশ।


আমাদের দেশে সাজা মওকুফ বা সাজা পরিবর্তনের ঘটনা ঘটতে আমরা দেখেছি। রাষ্ট্রপতি সাজা মওকুফ বা পরিবর্তন করেছেন। তরুণদের এসব অজানা নয়। আদালত, আইনের শাসন, বিচার প্রক্রিয়ার প্রতি আমাদের তরুণরা আস্থাহীন নয়। অনাস্থা রাজনীতিবিদদের প্রতি। কাদের মোল্লার যখন সাজা হয়, তার দুদিন আগে শোনা গেল, সরকারের সাথে জামায়াত শিবিরের এক গোপন আঁতাত হয়ে গেছে। সরকার জামায়াত-শিবিরকে মিছিল মিটিং করার অনুমতি দিল। অনুমতি পেয়ে সমাবেশ করে- সে সমাবেশে জামায়াত নেতা হুংকার দিলেন-দেশে তারা গৃহযুদ্ধ চালাবে। কয়েকটি শহরে শিবির কর্মীরা পুশিকে লাল গোলাপ উপহার দিল। এত মার যারা মারল পুলিশকে, পুলিশ কেন তাদের হাত থেকে ফুল নিল? বিএনপি নেতারা বলতে শুরু করল-সরকার ও আওয়ামী লীগ ১৮ দল ভেঙ্গে জামায়াতকে তাদের পক্ষে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। এটা আওয়ামী লীগের নির্বাচনী কৌশল। ঠিক এসময়ে রায় হল-কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন। তরুণরা কাদের মোল্লার মৃত্যুদন্ড চায় কেন? গোপন-আঁতাতের কারণে রায় প্রভাবিত হয়েছে, এমন অবিশ্বাস থেকে এটা হতে পারে। অবিশ্বাস রাজনৈতিক দলের প্রতি। আরো অবিশ্বাস-বিএনপি ক্ষমতায় এলে যাবজ্জীবন কি যাবজ্জীবন থাকবে?


মৃত্যুদন্ড এমন এক দন্ড যা একবার হয়ে গেলে-অন্য সরকার এসে তা পরিবর্তন করতে পারবে না। বিচারের নামে প্রহসন করে কর্নেল তাহেরকে ফাঁসি দিয়েছিলেন। কেন দিয়েছিলেন? সে বিচার হয়েছে তড়িঘড়ি করে। কারাদন্ড হলে আজ তাহের বেরিয়ে যেতে পারতেন। শাহবাগের তরুণদের হতাশা রাজনৈতিক দলের কারণে। বিএনপি অতীতে এদেরকেই মন্ত্রী বানিয়েছে। এখন যদি কাদের মোল্লা, নিজামী, মুজাহিদ, গোলাম আজমের জেল হয়, বিএনপি ক্ষমতায় আসার সাথে সাথে তারা জেল থেকে বেরিয়ে যেতে পারবেন। ভোটের রাজদনীতিতে ক্ষমতা বড়, কমিটমেন্ট বড় নয়। যারা ক্ষমতার রাজনীতি করেন, তারা দিনকে রাত করতে পারেন, পুরুষকে মেয়ে বানাতে পারেন, রাজাকারকে মুক্তিযোদ্ধা বানাতে পারেন।


আমাদের দেশে এক অদ্ভুত রাজনীতি হয়। বঙ্গবন্ধ হত্যাকারীদের বিচার আইন করে বন্ধ রাখা হয়েছিল। কি বীভৎস ছিল সে হত্যাকান্ড? এই হত্যাকারী সেনা সদস্যরা কি মানুষ ছিল? আমাদের দেশে একাত্তরের গণহত্যাকারীদের বিচার না করার জন্য দায়মুক্তির ব্যবস্থা করা হয়েছিল। ‘‘বঙ্গবন্ধু-হত্যাকারীদের’’ দেশে বিদেশে বড় বড় পদে বসানো হয়েছিল। একাত্তরের ঘাতকদের বানানো হয়েছে মন্ত্রী, উপদেষ্টা। বড় আফসোসের ব্যাপার। কত নিন্দনীয় ব্যাপার, তুমি নিষ্ঠুর পন্থায় মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করবে, অমানবিক কায়দায় জাতির পিতা ও তার পরিবার পরিজনকে হত্যা করবে, জেলে ঢুকে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দানকারী নেতাদের হত্যা করবে, আর আমার দেশের নেতারা আইন করে তোমাকে দায়মুক্তি দেবে? একাত্তরে গণহত্যাকারী এখন এই দেশে বসে নিরিবিলি অবসর জীবন যাপন করছে। তাদের বিচার চাওয়াও বিপদের কাজ। শাহবাগে তরুণরা ঘাতকদের বিচার চাচ্ছে-আর কিছু মানুষ তাদের নামে কুৎসা রটাচ্ছে। অনেক আগে ঘাতকের বিচারের দাবী উঠেছে। তাদের কথা কেউ শোনেনি। অনেকে বিচারের দাবীতে আন্দোলন হয়েছে। আন্দোলন সফল হয়নি। ১৯৯২ সালে জোরে শোরে বিচারের দাবী উঠে। জাহানারা ইমাম আন্দোলন তীব্র করার চেষ্টা করেন। সে আন্দোলনও সফল হয়নি। তখন আমরা কোন ফল পাইনি। ২০০৮ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠিত হয়। ধীরে সুস্থে ঘাতকদের বিচার প্রক্রিয়া এগিয়ে চলে। যারা মুক্তিযুদ্ধকে ভালবাসে তারা চায়, বিচার শেষ হোক। ঘাতকরা শাস্তি পাক। শেখ হাসিনার সরকার বিচারের উদ্যোগ নিয়েছে, এটা প্রশংসনীয়।


একাত্তর যারা দেখেছে, তাদের কাছে এরকম ঘটনা খুবই স্বাভাবিক। আল শামস্, আল বদরের লোকেরা এক আওয়ামী লীগ সমর্থকের বাড়ী ঘিরে ফেলেছে। তাদের ছেলে গেছে মুক্তিযুদ্ধে। নারী, পুরুষ, শিশু সকলে লাইন করে পাড়ে দাঁড় করানো হয়েছে। তাদের ব্রাশ ফায়ার করে মারা হবে। গৃহকর্তা শিশু কন্যাকে বুকে চেপে ধরে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। গুলি করে ঘাতক আল বদর। শিশু কন্যা কোলে মারা যায় বাবা। এই হত্যাকান্ডের বিচার হবে না? এসব হত্যাকারী পার পেয়ে যাবে? আমাদের সহপাঠী আবদুল হামিদকে ধরে নিয়ে টেকনাফের বধ্যভূমিতে চরম নির্যাতন করে মারা হয়। কি ভয়াবহ সে নির্যাতন। আমরা কি হামিদ হত্যার বিচার পেয়েছি? আমরা বিচার চাইতে পারিনা? সে আমার ক্লাসমেট, আমরা এক সাথে হোস্টেলে থাকতাম। একসাথে রাজনীতি করতাম। পাকিস্তানের শোষণ নির্যাতনের বিরুদ্ধে এক সাথে শ্লোগান দিতাম। এক সাথে আন্দরকিল্লা যেতাম বই কিনতে। হোস্টেলের বার্ষিক ভোজে এক সাথে খেতে বসতাম। শুরুতে অগ্নিঝরা দিন গুলিতে মশারী স্ট্যান্ড নিয়ে এক সাথে মিছিলে যেতাম। ছুরি দিয়ে শরীর থেকে তার চামড়া তুলে ফেলা হয়। তার হাড়গোড় ভাঙ্গা হয়। তার আঙ্গুল থেতলে দেয়া হয়। এভাবে তিলে তিলে তাকে মারা হয়। তার হত্যার বিচার চাইতে পারবো না? এই মুক্তিযোদ্ধা হত্যার বিচার চাইলে তুমি গৃহযুদ্ধের হুমকি দিতে পারো?


এভাবে রাজাকার আল বদর, আল শামস্ পাকিস্তানী সৈন্য, বিহারীরা একাত্তরে মানুষ খুন করেছে। কত মানুষ খুন করেছে? সংখ্যা এখন বের করা সম্ভব নয়। পাকিস্তানীদের কাছে একটি হিসাব ছিল। তারা জানত তারা কত মানুষকে হত্যা করবে। ভবিষ্যতে যে দেশটি স্বাধীন হবে সে দেশের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের হত্যার লক্ষ্যে প্রণীত তালিকা পাওয়া যায় পাকিস্তানী একাধিক কর্মকর্তার ডায়রিতে। ইতিহাসবিদ আর জে রামেল এ নিয়ে নিবিড় গবেষণা করেছেন। তিনি লিখেছেন, পাকিস্তানী সরকারের নির্দেশে নিহতদের চূড়ান্ত সংখ্যা ৩ লাখ থেকে শুরু করে ৩০ লাখ হতে পারে (সূত্রঃ ফিলিপ হেনশার বৃটিশ ঔপন্যাসিক, ডেইলি ইন্ডিপেন্ডেন্ট, ইউকে, অনুবাদ আশিস আচার্য্য, দৈনিক প্রথম আলো, ২৩/০২/১৩)। নিহতের সংখ্যা ত্রিশ লক্ষের কম হবে বলে আমি মনে করিনা। আমি একাত্তরের হত্যাকান্ডের প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে মনে করি, সেনা ও তাদের দোসররা লাখ লাখ মানুষকে অকল্পনীয় রকমের নিষ্ঠুর কায়দায় ও ভয়ংকরতম উপায়ে হত্যা করেছিল। এই গণহত্যার বিচারের সময় এক সাক্ষীর কথা উল্লেখ করে ফিলিপ হেনশার লিখেছেন, নির্যাতনের নিষ্ঠুরতম বিবরণগুলি আপনাদের পড়ে দেখা উচিৎ। আমরা সে সব জঘন্য বীভৎস ঘাতকদের কথা ভুলে যাব? নির্যাতিতদের দুঃখ কষ্টের কথা মন থেকে আমরা মুছে ফেলব? নৃশংসতার শিকার একটি পরিবারের একমাত্র জীবিত সদস্য এক নারীর চোখের সামনেই হত্যা করা হয়েছিল তার মা বাবা, দুই বোন এবং দুই বছর বয়সী ভাইটিকে। তারপর তিনি ১২ জন সেনার ধর্ষণের শিকার হন। তখন তার বয়স ছিল মাত্র তের বছর।


আজ যারা যুদ্ধাপরাধের বিচারে বাধা দিচ্ছে একাত্তরের প্রত্যক্ষদর্শীরা তা মেনে নিতে পারবে? বাধাতো পাকিস্তান সরকার দিয়েছে। স্বাধীন হওয়ার পর পাকিস্তান-বাংলাদেশকে বলেছে নতুন দেশটিতে যদি একজন পাকিস্তানী নাগরিকের বিচার করা হয়, তাহলে পশ্চিম পাকিস্তানে অবস্থানরত একজন বাঙালীকেও সেখান থেকে ফিরে আসতে দেয়া হবেনা। এখন সেই বিচার প্রক্রিয়া চলছে জামায়াতের সহিংস হুমকির মুখে। আজকের তরুণ-তরুণীরা-আপনারা কি বিশ্বাস করেন, একাত্তরের প্রথম দিকে মার্চ এপ্রিলে-তরুণ,যুবক,হিন্দু আওয়ামী লীগের সমর্থক, বুদ্ধিজীবি, ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষকদের অকাতরে হত্যা করা হয়েছিল? দ্বিতীয় পর্যায়ে নারীদের ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। তাদের উপর নিষ্টুরতম বর্বরতা চালানো হয়? দুই লাখ নারী পাকিস্তানী সেনাসদস্য ও তাদের সহযোগীদের ধর্ষণের শিকার হয়? তাদের মধ্যে ২৫ হাজার নারী অন্তঃস্বত্তা হয়ে পড়েন? পাকিস্তানীরা অনেক ‘‘রেপক্যাম্প’’ স্থাপন করেছিল। সেখানে বাঙালী মেয়েদের আটকে রেখে নির্বিচারে ধর্ষণ করা হতো। ইসলামপন্থী দলের নেতারা আজ যুদ্ধাপরাধের বিচার ঠেকাতে ইসলাম রক্ষার জিগির তুলেছেন। যখন রেপক্যাম্পে মেয়েদের ধর্ষণ করত ইসলামের নাম ব্যবহারকারীরা তখন আপনারা কোথায় ছিলেন? ধর্ষণকারীদের চাইতে কি মুক্তিযোদ্ধারা খারাপ? আপনাদের বিচারে ধর্ষকরাই কি ইসলামের রক্ষক? মুক্তিযুদ্ধকে যারা ভালবাসে তারা ঘাতক, ধর্ষকদের বিচার চায়। কয়েকমাস পর বাংলাদেশে নির্বাচন হবে। নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তন হতে পারে- এটা গণতন্ত্রের শর্ত। দেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া চলছে। ৪২ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে বিচার শুরু করার জন্য। এতে যতটুকু অর্জন হয়েছে-তা নিয়ে আমরা আশাবাদী। বিচার থামিয়ে দেয়ার জন্য জঘন্য কর্মকান্ড হচ্ছে। ভবিষ্যতের সরকার পরিবর্তনের আগে বিচারের কাজ শেষ হবে। বিএনপি-জামায়াতের মিত্র, এরা ক্ষমতায় এসে বিচার প্রক্রিয়া বহাল রাখবে, তা কেউ বিশ্বাস করে না।


শাহবাগে তরুণরা বলছে, তারা কাদের মোল্লার সাজা প্রত্যাখ্যান করেছে। শেখ হাসিনার সরকার যুদ্ধাপরাধের বিচারে লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি। তবে সরকার পরিবর্তন হলে, যুদ্ধপরাধের দায়ে জেলে থাকা বন্দীরা বেরিয়ে আসবে। একারণে তরুণরা ফাঁসির দাবি জানাচ্ছে। মৃত্যুদন্ড একবার কার্যকর হলে, তা আর পরিবর্তন করা যায় না।


একাত্তরের ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে যা আমাদের কাছে অবশ্যম্ভাবী হয়ে উঠেছিল, তা হচ্ছে- (এক) পাক সেনা বাহিনীর নিশ্চিত পরাজয়, (দুই) নতুন রাষ্ট্র বাংলাদেশ-এর জন্ম। এই অপ্রতিরোধ্য ঘটনা রুখতে পাক সেনা, আল শামস্ ও আল বদর বাহিনী-বাঙালী বুদ্ধিজীবীদের ব্যাপকভাবে হত্যা করার একটি বিশদ ও সমন্বিত পরিকল্পনা বানায়। অনেক বাঙালী ডাক্তার শিক্ষক, আইনজীবী, সাংবাদিক, কবি, লেখক, বিজ্ঞানীকে প্রাণ দিতে হয়েছে। এ হত্যাকান্ডে ঘটে ১০ থেকে ১৪ ডিসেম্বরের মধ্যে। খুব সংগত কারণেই আমরা সবাই একাত্তরের খুন ধর্ষণ লুণ্ঠনের বিচার চাই। বিচার চাচ্ছে নতুন প্রজন্ম। আগামী নির্বাচনে যাদের ভোট ‘‘নির্ধারকের’’ ভূমিকায় থাকবে। আদালত ও বিচার ব্যবস্থার উপর তরুণ প্রজন্মের আস্থা আছে। তাদের হতাশা রাজনীতিবিদদের নিয়ে। রাজনীতিবিদদের ঠিক করতে হবে, একাত্তরের খুন ধর্ষণের বিচার তারা সকলে চায় কিনা। সরকার পরিবর্তন হলে একাত্তরের ঘাতক ধর্ষকের বিচার বন্ধ হবেনা- এ নিশ্চয়তা এখনো আসেনি। রাজনীতিবিদদের নিয়ে তরুণ প্রজন্মের যে হতাশা তৈরি হয়েছে-তা নিরসন করতে না পারলে, আমরা আজকের এই সংঘাতময় পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে পারবো না। মুক্তিযুদ্ধ কোন দলের ব্যাপার নয়, বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে এক বিরাট শক্তি এখনো টিকে আছে এটাই অবাক ব্যাপার।